মো. ইসহাক, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ
মাটি ও মানুষের কবি আবদুল হাই মাশরেকী । তবুও জন্মদিনে উপেক্ষিত তিনি। সরকারি ভাবে তাঁর জন্মদিন পালনের কোনও উদ্যোগ নেই। উদ্যোগ নেই অবহেলায় থাকা তাঁর সমাধিস্থল সংরক্ষণের। নষ্ট হওয়ার হাত থেকে তাঁর পাণ্ডুলিপি বাঁচানোর। এই উপেক্ষার মধ্যেই আজ, শুক্রবার তাঁর গুণগ্রাহী জাতীয় সাংস্কৃতিক মঞ্চের উদ্যোগে কবির ১১৬তম জন্মজয়ন্তী পালন করা হয়েছে। ময়মনসিংহের মুসলিম ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত হয় এই আলোচনা অনুষ্ঠান।
কবি আবদুল হাই মাশরেকীর জন্ম ১ এপ্রিল ১৯০৯ সালে। তাঁর লেখা গান ‘‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে ছায়া দে… মাঝি বাইয়া যাও রে… আমার কাঙ্খের কলসি…’ এপার বাংলা ছাড়াও ওপার বাংলায় এখনও জনপ্রিয়।
আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ জাতীয় সাংস্কৃতিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম মিথুন এর সঞ্চালনায় ময়মনসিংহ জাতীয় সাংস্কৃতিক মঞ্চের সভাপতি ও ময়মনসিংহ ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশনের সদস্য সচিব আজিজুল হাই সোহাগের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সাংস্কৃতিক মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটি সভাপতি ও দৈনিক ডেসটিনির সম্পাদক কবি গবেষক মাহমুদুল হাসান নিজামী।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কবি শামসুল ফয়েজ, কবি আশরাফ মীর, কবি সোহরাব পাশা, ময়মনসিংহ জেলা কালচারাল অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন, ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট এম এ হান্নান খান, কথাশিল্পী সালাহ উদ্দিন পাঠান, কবিপুত্র নঈম মাশরেকী, কবি জালাল উদ্দিন আহমদ প্রমুখ।
জানা যায়, সরকারি উদ্যোগে লোককবি কবি আবদুল হাই মাশরেকীর জন্মদিন পালন করা হত ১৯৯২ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত। বাংলাদেশ টেলিভিশন কার্যালয়ে সংরক্ষিত ছিলো তাঁর ছবি। কবির লিখা গান, উপন্যাসে তৈরি চলচ্চিত্রের গান নিয়মিতই পরিচালিত হতো বাংলাদেশ টেলিভিশন। তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগও নেয়া হয়েছিল সেই সময়ে। এরপর দেশে নতুন সরকার গঠন হলে জন্মদিন পালনের জন্য সরকারি বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় মাশরেকীর বন্দনা। রাস্তা করার অজুহাতে ভেঙে ফেলা হয় কবির সমাধির একাংশ। লোককবির সমাধিস্থল অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে গ্রামবাসী ও আত্মীয়দের। এখনও কবির কিছু পাণ্ডুলিপি রয়েছে তাঁর উত্তরসূরিদের কাছে।
বক্তারা বলেন, কবি মাশরেকীর সাহিত্য অবদান শুধু গানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তিনি ছিলেন বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর, বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। অথচ এই কালজয়ী স্রষ্টার যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আজও অধরা। তারা আরো বলেন, এমন একজন লেখক যিনি শোষিত মানুষের ব্যথা-বেদনা গান ও কবিতায় ধারণ করেছেন, তাকে অবহেলিত রাখা আমাদের জাতিগত ব্যর্থতা। অনতিবিলম্বে তাঁকে ২১শে পদক ও স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করার আহবান জানানো হয়।

