ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হবার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সারাদেশে অবনতি ঘটে। সারাদেশের মতো ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলাসহ আঠারবাড়ী-রায়ের বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকায় চুরি-ছিনতাই,মাদক বিক্রি,সন্ত্রাসী তৎপরতা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। এ অবস্থায় ১৭ নভেম্বর উপজেলার রায়ের বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে যোগদান করেন ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) ইনচার্জ মো.গোলাম কিবরিয়া।যোগদানের পর থেকেই তিনি নিয়মিত বিশেষ অভিযানে মাদক, সাজাপ্রাপ্ত এবং ওয়ারেন্টের আসামি কে গ্রেপ্তার করে আইনশৃংখলা পরিস্থতির বজায় রাখার জন্য মামলা দিয়েছেন। ফলে কমতে শুরু করেছে অপরাধমূলক ঘটনা। মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধীরা রয়েছেন আতঙ্কে।
গত কয়েক দিনে মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত এবং ওয়ারেন্টসহ বিভিন্ন মামলার ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় মাদক উদ্ধার এবং মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা ও হয়েছে।
জানা গেছে, যৌতুক মামলায় গ্রেপ্তার মো.তরিকুল ইসলামের বাড়ি উপজেলা সরিষা ইউনিয়নের মহেশপুর কান্দাপাড়া গ্রামে। সে ওই গ্রামের মো. রশিদ আহমেদের ছেলে। ৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাতে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট মামলায় ১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ডসহ ২ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা অর্থদন্ড ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো.শহীদ উল্লাহর বাড়ি উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামে। সে ওই গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে। ২ এপ্রিল বুধবার দুপুর ১ টার দিকে রায়ের বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশের একটি টিম রায় বাজার থেকে গ্রেপ্তার করে। সি আর ৫১/২০ যৌতুক মামলায় এক বছর এক মাস সশ্রম কারাদণ্ড ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো.নজরুল ইসলামের বাড়ি উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামে। সে ওই গ্রামের আঃ রহমানের ছেলে। তাকে (১৪ মার্চ) বিষ্ণপুর গ্রাম এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট মামলায় ওয়ারেন্টভূক্ত আসামি শ্রী প্রদ্বীপ ভাস্করের বাড়ি উপজেলা আঠারবাড়ী ইউনিয়নের উওর বানগাঁও গ্রামে। ওই গ্রামের গঙ্গ ভাস্করের ছেলে। তাকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।
রায়ের বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে মহিলা পুলিশ না থাকায় ওয়ারেন্টভূক্ত সি আর ৭৭/২৪ মামার আসামি রাবেয়া খাতুন পালিয়ে যাবে সেই সম্ভাবনায় বিবেচনা করে স্থানীয় মহিলা গ্রাম পুলিশের সহায়তায় নিয়ে তার স্বামীর বাড়ি থেকে থাকে গ্রেপ্তার করে বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণের উদ্দেশ্য ঈশ্বরগঞ্জ থানায় সর্তকতা অবলম্বন করে হস্তান্তর করা হয়।
ঈদের আগের দিন উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী দুই গ্রাম মহেশপুর গাংপার ও চাপিলাকান্দা গ্রামের মধ্যে চাপিলাকান্দা গ্রামের শামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে শামসুজ্জামানের শুকনো পুকুরে শহিদ জিয়া স্মৃতি ফুটসাল নাইট ফুটবল টুর্নামেন্ট খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে রাত অনুমান১১ টার সময় রেফারির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আয়োজক কমিটির টিমের সাথে মহেশপুর গাংপার গ্রামের ফুটবলাদের বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ৪/৫ জন করে আহত হয়।
পরবর্তীতে মহেশপুর গাংপার গ্রামের সাত্তার, পিতা- মৃত আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে রাত অনুমান ১১ টা ৩০ মিনিটে মহেশপুর গাংপারের মসজিদের মাইকে ঘোষনা করা হয় যে, চাপিলাকান্দার লোকজন তাদের লোকদের খেলায় মারপিট করেছে। আগামীকাল সকাল বেলা সবাইকে মারামারিতে অংশগ্রহণ করার জন্য মসজিদের মাইকে ঘোষনা করে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে এবং পরিস্থিতি আস্তে আস্তে দুই গ্রামেই এলাকাবাসীর মধ্যে আতংক সৃষ্টি হয়। এই অবস্থায় দেখে দূত আয়োজক কমিটির সভাপতি শামসুজ্জামান মানিক ৯৯৯ এ কল করে জানালে রায়ের বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) ইনচার্জ মো.গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে একটি পুলিশ টিম নিয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মহেশপুর গাংপার ও চাপিলাকান্দা দুই গ্রামের উত্তেজিত জনতাকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অনুরোধ করে থমথমে পরিস্থিতি শান্ত করে এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট যাতে না হয় প্রাণপণ চেষ্টা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নাড়ির টানে ঘরমুখো মানুষ কেন্দুয়া-চৌরাস্তা মহাসড়ক ও ঈশ্বরগঞ্জ- তেলুয়ারি সড়কসহ যানজট মুক্ত রাখার জন্য সকাল ৯ টা হতে রাত ১০ টা পর্যন্ত ১ জন এস আই ও ২ জন পুলিশ সদস্য বাজারের ভিতরে যাতে যানজট না হয় সে জন্য পিকআপ মোড়ে ১ জন, গরুহাটা পয়েন্টে ১ জন ও তদন্ত কেন্দ্রের সামনের মোড়ে ১ জন পুলিশ সদস্য দিনের বেলা যাতে বড় গাড়ি, ট্রাক, পিকআপ বাজারের ভিতরে প্রবেশ করে যানজট তৈরি করতে না পারে সেইজন আঠারবাড়ী রায়ের বাজার যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আঠারবাড়ী রায়ের বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ । ব্যস্ততম এ বাজারে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ৩ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে যানজট মুক্ত রাখার পরিবেশ তৈরি করেছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা বলেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়নে রায়ের বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা অপরিহার্য। যে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যত উন্নত, সেই এলাকার মানুষের জীবনমান ততটাই উন্নত। রায়ের বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের বর্তমান ইনচার্জ মো. গোলাম কিবরিয়া স্যার যোগদানের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বেশ উন্নতি হয়েছে। আগামীতে ও এ ধারা অব্যাহত থাকবে-এমন প্রত্যাশা আমাদের।
রায়ের বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) ইনচার্জ মো.গোলাম কিবরিয়া বলেন, মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন,আর্থসামাজিক উন্নয়ন সহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিষ্ঠার ও সততার সঙ্গে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। সেই সাথে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর হারানো ভাবমূর্তি ফিরিয়ে এনে আঠারবাড়ী রায়ের বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র-কে একটি মডেল (তদন্ত কেন্দ্র) হিসেবে গড়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখবো।

